সর্বশেষ আপডেট : ১৯ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জাফলংয়ে গার্মেন্টকর্মী সাথী হত্যা: সাবেক স্বামীসহ দুজনের মৃত্যুদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার ::

সিলেটের জাফলংয়ে প্রায় ১৫ বছর আগে গার্মেন্টকর্মী রুনা আক্তার সাথী (১৯) হত্যা মামলায় তাঁর সাবেক স্বামীসহ দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক শেখ নাজমুন নাহার এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই পলাতক ছিলেন বলে জানিয়েছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. কবীর হোসেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন গাজীপুরের জয়দেবপুর বুরুলিয়া গ্রামের মুছা খানের ছেলে নাজমুল হাসান খান (২৩) এবং তাঁর বন্ধু শেরপুর জেলার শ্রীবরদী লংপাড়া হাওলাচর গ্রামের আদম আলীর ছেলে সুজন মিয়া (২০)।

মামলার নথি অনুযায়ী, ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আসারগাঁও এলাকার নাজমুল হকের মেয়ে রুনা আক্তার সাথী গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। সেখানে বাসের হেলপার নাজমুল হাসান খানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তাঁরা বিয়ে করেন। তাঁদের একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়।

পরবর্তীতে নাজমুল তাঁর বন্ধু সুজন মিয়ার ফুফুর কাছে ওই সন্তানকে দত্তক দেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। সন্তানকে ফিরে পেতে সাথী একাধিকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, বিবাহবিচ্ছেদের পরও নাজমুল গার্মেন্টে যাওয়া-আসার পথে সাথীকে বিরক্ত করতেন। পরে ছেলের সঙ্গে দেখা করানোর কথা বলে ২০১০ সালের ১২ মে সাথীকে সিলেটে নিয়ে আসেন তিনি।

পরদিন দুপুরে জাফলংয়ের সোনাটিলা ফরেস্ট এলাকার একটি নির্জন স্থানে সাথীকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার তিন দিন পর, ১৫ মে নিহতের বাবা গোয়াইনঘাট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

তদন্তে পুলিশ পরিদর্শক শহীদুল্লাহ নাজমুল হাসান খানকে গ্রেপ্তার করেন। মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে, পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা করেন।

২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা নাজমুল হাসান খান ও সুজন মিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে নাজমুল জামিনে মুক্তি পান। মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বুধবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এপিপি আল আসলাম মুমিন। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফারহানা হাবিব চৌধুরী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: